বন্যায় বিপর্যস্ত জনপদ,বিপন্ন মানুষের বাঁচার আকুতি
ডেস্ক রিপোর্ট
471
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৪ | ০৪:০৮:২৮ এএম
ফাইল-ফটো
চারদিকে শুধু পানি। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। বানের পানিতে ভেসে যাচ্ছে গৃহপালিত পশু, আসবাবপত্র। নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের চেষ্টা আর আর্তনাদ বানভাসিদের। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এই পরিস্থিতি চলছে মৌলভীবাজার থেকে শুরু করে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়িসহ দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়া ফেনীর জেলা সদরও গতকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ফেনী শহরের সবচেয়ে উঁচু এলাকা ট্রাংক রোডে বুক সমান পানি ওঠে। গতকাল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির অনেক এলাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ১০ জেলায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত বন্যায় ৩৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যা নিয়ে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। এতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গত দুদিন বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হওয়ায় উপদ্রুত এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের কিছু অংশেও পানি উঠেছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক মিলছে না বন্যাকবলিত এলাকায়। প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না বহু মানুষ। বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে আখাউড়া স্থলবন্দর। প্রয়োজনের তুলনায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা : গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশের অন্তত ১০টি জেলাজুড়ে চলমান ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।'তিনি সবাইকে বলেছেন, বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর।’
৩৬ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত : এদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির পানির প্রভাবে দেশের ১০ জেলার প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় একজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১০। সেগুলো হলো কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট। এসব জেলার ৬৫ উপজেলা বন্যায় প্লাবিত। এই ১০ জেলায় মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৫৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৭৫ হাজার ৬৬৮ জন লোক এবং ৭ হাজার ৪৫৯টি গবাদিপশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য মোট ৪৪৪টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে। দুর্গতদের জন্য নগদ ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ১৩ হাজার ৬৫০ টন চাল ও ১১ হাজার বস্তা শুকনা খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে।
উন্নতির পূর্বাভাস : বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে গতকাল মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় (আজ শুক্রবার থেকে) দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে। এ সময় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই এবং ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের মুহুরী, ফেনী, গোমতী, হালদা নদীর নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী সময়ে উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে জানিয়ে বলা হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি সমতলে কমে যেতে পারে।
জেলায় জেলায় বন্যার অবনতি : পাঁচ দিন ধরে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল এ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়। ঘরবাড়ি তলিয়ে অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জীবন রক্ষায় তাদের হাহাকার আর আর্তনাদে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থতি সৃষ্টি হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বিকাল থেকে জেলা শহরের সঙ্গে এ তিন উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল জেলা শহর তলিয়ে যায়। শহরের উঁচু এলাকা ট্রাংক রোডে বুকসমান পানি ওঠে। ফলে শহরের অধিকাংশ বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। বন্যায় ফাজিলপুরে এক শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন এসপি মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া সোনাগাজী, দাগনভূইয়াও গতকাল প্লাবিত হয়। গতকাল ফেনী শহরেও বন্যার পানি প্রবেশ করে।
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবিসহ স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজ করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের ফেনী অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার পানিবন্দিদের মধ্যে বয়স্ক নারী-পুরুষ, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। অন্যদিকে খুদেবার্তা পাঠিয়ে আটকেপড়াদের উদ্ধারে অনেকে সহযোগিতা চেয়েছেন।
আরও পড়ুন:
জাতীয় সম্পর্কিত আরও
ভোলায় ৭ অসহায় ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা, ৬২ হাজার টাকা অনুদান প্রদান
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভোলায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালিত : সফল মৎস্যচাষিকে সম্মাননা প্রদান
১৭ আগস্ট ২০২৬
ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ১০ দপ্তরে আইনি নোটিশ
০৫ আগস্ট ২০২৬
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান সভাপতিত্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
০৪ আগস্ট ২০২৬
ভোলায় ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান
০২ আগস্ট ২০২৬
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসছেন এটি রাজনৈতিক কথা, বাস্তবতা নেই : ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ
২৯ জুলাই ২০২৬
