ভোলায় ছাত্রলীগ নেতা আরিফের বাসার সামনে রক্তাক্ত লাশ সুষ্ঠু তদন্ত দাবি পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক
131
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:০৯:০১ পিএম
ভোলায় ছাত্রলীগ নেতা আরিফের বাসার সামনে রক্তাক্ত লাশ সুষ্ঠু তদন্ত দাবি পরিবারের
ভোলাদর্পণ প্রতিবেদক: ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আরিফের বাসার সামনে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সূষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান নিহত আরিফের বাবা বশির উদ্দিন মাস্টার।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গত ৩০ আগস্ট ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়ার সময় বাড়ির সামনে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় তার কপাল ভাঙা, মুখ ক্ষত-বিক্ষত ও হাতের কব্জি ভাঙ্গা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হলেও পরিবারের হাতে এজাহার কপি ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। বরং পুলিশ আরিফকে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ করেছে। যা স¤পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেন তিনি। আরিফ কখনো মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল না দাবি করে তার বাবা বশির উদ্দিন বলেন, পুলিশের তদন্তে অসঙ্গতি ও সত্য গোপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মামলাটি পিবিআই বা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশ সুপারের কাছে দাবি জানান।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, গত ৩০ আগষ্ট ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আরিফের বাসার সামনে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলমান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল কোন দুষ্কৃতিকারী তাকে হত্যা করেছিল। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়। কিন্তু সাইফুল্লাহ আরিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি অসতর্কতাবশত নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। ৩০ আগস্ট দিবাগত রাত অনুমান ১২টা ১৫ মিনিটে রাতের খাবার শেষে সাইফুল্লাহসহ পরিবারের সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। ভোরবেলা ফজরের নামাজের জন্য বের হওয়ার সময় তাঁর বাবা বশির উদ্দীন বাড়ির সামনে গেটের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সুরতহালে দেখা যায়, আরিফের মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন এবং হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই ছাদে যেতেন। ঘটনার দিন রাতেও তিনি ছাদে ওঠেন এবং অসতর্কতাবশত রেলিংবিহীন অংশ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান।
পরিবারের অভিযোগ স¤পর্কে পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, ‘ওই ঘটনায় তদন্ত চলমান। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। তদন্তে তথ্য সংযোগ-বিয়োগের সুযোগ রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ৩০ আগস্ট ভোরে নিজ বাসার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফুল্লাহ আরিফের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবার। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। দীর্ঘ ১৪ দিন পর পুলিশ তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। পুলিশ দাবী করেন নিহত আরিফ তার বাসার ছাদ থেকে পরে মারা যায়।
অপরদিকে পুলিশের এই তদন্ত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবী করে নিহতের পরিবার বলছেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
আরও পড়ুন:
রাজনীতি সম্পর্কিত আরও
ভোলায় জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটিকে বরণ ও বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল
০৯ মে ২০২৬
ভোলায় সাবেক মন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
০৯ মে ২০২৬
ভোলা জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন
০৯ মে ২০২৬
সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই - সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম
০৯ মে ২০২৬
ভোলায় শ্রমিকদলের আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত
০২ মে ২০২৬
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ভোলা সদর উপজেলা কমিটি অনুমোদন ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
০২ মে ২০২৬
